“ভূট্টোর মুখে বেল মারো বাংলাদেশ স্বাধীন করোশ্লোগান আর প্রতিরোধের অগ্নি ঝরা জামালপুর।’রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ৯ মার্চ তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত এমএলএ এডভোকেট আব্দুল হাকিমের সভাপতিত্বে স্থানীয় স্টেশন রোডস্থ এম সরফুদ্দিনের বাসায় এডভোকেট মতিয়ুর রহমান তালুকদারকে আহ্বায়ক ও রেজাউল করিম হীরাকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ৫১ সদস্যের সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন নির্বাচিত এমএলএ এডভোকেট আব্দুল হাকিম, এডভোকেট আনিছুর রহমান, আব্দুল হাকিম সরকার, আব্দুস সামাদ, করিমুজ্জামান তালুকদার, প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এডভোকেট আখতারুজ্জামান, আব্দুল হাই বাচ্চু, আব্দুল মালেক, রাশেদ মোশাররফ, আশরাফ হোসেন, এডভোকেট আব্দুল হালিম, নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ডাঃ নাদেরুজ্জামান খাঁন, ইসলামপুরের আওয়ামী লীগ নেতা আক্রামুজ্জামান ও সৈয়দ আলী মন্ডল। ওই সময় ১০টি থানায় সংগ্রাম পরিষদের কমিটি গঠিত হয়। ইতোপূর্বে ১১ দফা আন্দোলনের ভিত্তিতে তৎকালীন মহকুমা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে মহকুমা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃস্থানীয় সদস্যরা ছিলেন ফজলুল বারী তারা, সিদ্দিকুর রহমান, মাহবুবুর রহমান আনসারী, কাছারী পাড়ার আনোয়ার সহ অসংখ্য ছাত্র যুবক। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর মানুষ বুঝে নেয় যুদ্ধ ছাড়া মুক্তি নেই। তাই সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে চলতে থাকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি। প্রতিদিন হাজারো মানুষের মিছিলে শ্লোগান ওঠে ঃ “সব কথার এক কথা-বাংলার স্বাধীনতা, ভুট্টোর মুখে বেল মারো বাংলাদেশ স্বাধীন করো।” ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে আশেক মাহমুদ কলেজের রোভার স্কাউটের ডামি রাইফেলে কলেজ প্রাঙ্গণ, স্থানীয় তমালতলা, হাই স্কুল মাঠে ও গৌরিপুর কাচারী মাঠে চলতে থাকে ছাত্র যুবকদের যুদ্ধ প্রস্তুতির প্রশিণ। এ সময় যশোর থেকে ট্রেন যোগে আর্মির একটি এন্ট্রি এয়ার ক্র্যাফট ঢাকার উদ্দেশ্যে জামালপুর অতিক্রমের সময় স্টেশন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্ররা আটক করে। প্রায় ৫ ঘন্টা অবাঙ্গালী আর্মি অফিসার সহ ছাত্ররা এন্ট্রি এয়ার ক্র্যাফটি আটকে রাখে। পরে ময়মনসিংহ থেকে বাঙ্গালী ইপিআর এয়ার ক্র্যাফটটি গ্রহণ করবে প্রতিশ্র“তি দিলে ছাত্ররা তা ছেড়ে দেয়। ২৫ মার্চ পর্যন্ত জামালপুর ছিল উত্তাল মিছিলের শহর। দাবি একটাই বাংলার স্বাধীনতা। লাঠি সোঠা, রামদা, ডামি রাইফেল এবং সুপুরি গাছ দিয়ে নকল এন্ট্রি এয়ার ক্র্যাফট বানিয়ে ছাত্র যুবকরা মিছিলে যোগ দিতো।
ঢাকায় নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের উপর হানাদার বাহিনীর হামলার খবর জামালপুর পৌছার পর ছাত্র যুবকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১২ মার্চ গৌরিপুর কাছারী মাঠে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে এক বিরাট জনসভায় সর্বস্তরের মানুষের প্রতি হানাদার প্রতিরোধে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় ছাত্র নেতা হাফিজুর রহমান বাদশা আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তান পতাকায় আগুন ধরায় এবং আব্দুল মতিন হিরু স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ায়। এখানে “আমার সোনার বাংলা” গানটি পরিবেশন করেন সুশান্ত কুমার দেব কানু। একই দিন নতুন হাই স্কুলে সংগ্রাম পরিষদের অফিস উদ্বোধনের সময় পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ানো হয়। একই দিন ছাত্ররা তৎকালীন অবাঙ্গালী এসডিও ইমতিয়াজ জাভেদকে ধরে এনে ছাত্রদের সাথে জয় বাংলা শ্লোগান সহ মিছিল করায়। ২৬ মার্চ স্থানীয় প্রশাসন সম্পূর্ণ ভাবে সংগ্রাম পরিষদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। অবাঙ্গালী এসডিও ইমতিয়াজ জাভেদ ও অবাঙ্গালী মহকুমা পুলিশ অফিসারকে নিরাপদ জেল হাজতে পাঠানো হয়। ভারপ্রাপ্ত এসডিওর দায়িত্ব দেয়া হয় সেকেন্ড অফিসার আব্দুর রশিদকে। এর আগে ২৬ মার্চ সকালে আনোয়ার হোসেন চাঁন, ফজলুল বারী তারা, সৈয়দ আলী মন্ডল, ফয়েজুর রহমান, আঃ মজিদ আকন্দ, আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ছাত্র যুবকরা তৎকালীন মহকুমা আনসার এ্যাডজুটেন্ট ফজলুল হক কে (পরে শহীদ) বাসা থেকে ডেকে এনে আনসার এ্যাডজুটেন্ট এর চাবি দিয়ে ট্রেজারী খুলে ৪৩০টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল (গুলিসহ) নিয়ে এমএলএ আব্দুল হাকিমের জিপে করে পাথালিয়াস্থ তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই রাইফেল গুলো মুজাহিদ, আনসার ও প্রশিণ প্রাপ্ত ছাত্র যুবকদের মধ্যে বিলি করা হয়। জামালপুরের তৎকালীন পুলিশ সহ সর্বস্তরের প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিরোধ প্রস্তুতির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে। এ সময় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে সীমান্ত থেকে কয়েক’শ বাঙ্গালী ইপিআর সদস্য হানাদার প্রতিরোধে অংশ নেয়ার জন্য জামালপুর চলে আসে। মুজাহিদ বাহিনী, আনসার, ইপিআর, ছাত্র, যুবকের যৌথ প্রতিরোধ বাহিনী স্থানীয় প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ক্যাম্প স্থাপন করে। শহর থেকে জামালপুর-ঢাকা মহাসড়কে দু’কিলোমিটার বেলটিয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ বাহিনী ব্যাংকার স্থাপন করে যুদ্ধ প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সংগ্রাম পরিষদ ও প্রতিরোধ বাহিনীর আরেক ঘাটি স্থাপন করা হয় স্থানীয় হাই স্কুলে। প্রতিরোধ বাহিনীর জন্য জনগণের স্বতঃর্স্ফুত ভাবে দেয়া খাবার সংগ্রহ ও ক্যাম্পে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করতেন দিদারুল আলম খুররম, সৈয়দ আলী মন্ডল, আঃ মজিদ আকন্দ, ময়েন মন্ডল, সাদু, মহসিন মিয়া প্রমুখ। ছাত্র ইউনিয়নের একটি টিম মটর গাড়িতে কাঠের বন্ধুক সাথে করে যুদ্ধ প্রস্তুতি ও সংগঠিত করার কাজে সার্বণিক দায়িত্ব পালন করতো। এ দায়িত্ব ছিল হাকিম ও রশিদের উপর। এ সময় প্রতিদিন ডামি রাইফেল নিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন স্বাধীনতার পে মিছিল করতো। মিছিলে মাহবুবুর রহমান আনসারী, ফয়েজুর রহমান, হাবিবুর রহমান হবি, মেজবাহ আহম্মেদ, সুরুজ্জামান, আলী জহির, জাহিদ হোসেন রবিসহ অনেক ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী অংশ নিতো। ৬ এপ্রিল তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট আঃ হাকিম এমএনএ, ভারপ্রাপ্ত এসডিও আঃ রশিদ ও সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম হীরা ভারতের তুরা জেলায় যান ভারতীয় কর্তৃপরে সাথে কথা বলার জন্য। তারা মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলা প্রশাসন ও ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর সাথে কথা বলেন। তাদের আশ্বাস পেয়ে ফিরে এসে মুক্তিবাহিনী গঠনে আরো সক্রিয় হন। এ সময় সংগ্রাম পরিষদের অধীনে অর্থ উপ-পরিষদ, সশস্ত্র বাহিনী উপ-পরিষদ সহ কয়েকটি উপপরিষদ গঠন করা হয়। ১৪ এপ্রিল শহরের মালগুদাম, স্টেশন ও শেরপুর গোদারা ঘাটে পাকিস্তানী বাহিনী বিমান হামলা চালায়। বিমান হামলায় নৌকার মাঝি ফজলু ও অন্য ছয়জন শহীদ হন। ইতোপূর্বে প্রতিরোধ বাহিনী জামালপুর-ঢাকা সড়কের একটি সেতু বোমা মেরে ধ্বংসের চেষ্টা করে। কিন্তু বোমায় সেতুর আংশিক তি হয় মাত্র। ১৯ এপ্রিল হানাদার বাহিনী মধুপুর অতিক্রম করে জামালপুর জেলায় প্রতিরোধ বাহিনীর মুখোমুখি হয়। প্রতিরোধ বাহিনীর যোদ্ধারা রাত পর্যন্ত তাদের হালকা অস্ত্রে হানাদার বাহিনীকে ঠেকিয়ে রাখে। হানাদার বাহিনীর ভারী অস্ত্রের কাছে টিকতে না পেরে পরদিন পিছু হটে ভারতে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিরোধ বাহিনী ২১ এপ্রিল পিছু হটে ভারতের ঢালু, মহেন্দ্রগঞ্জ, বারাঙ্গা পাড়া ও পুরো খাসিয়ায় আশ্রয় গ্রহণ করে। এখানেই গড়ে তোলা হয় ইয়ুথ রিসিপশন ক্যাম্প ও মুক্তি বাহিনীর ট্রেনিং ক্যাম্প। ২২ এপ্রিল হানাদার বাহিনী জামালপুর ঢুকে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বেলটিয়া ও পাথালিয়ায় অসংখ্য বাড়ি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। হানাদার বাহিনী শুধুমাত্র পাথালিয়ায় ১১’শ ৭২টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। হানাদাররা তৎকালীন মহকুমা আনসার এ্যাডজুটেন্ট ফজলুল হককে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। হানাদাররা পাথালিয়ার ছাত্রলীগ নেতা আঃ হালিম ও বেবী চালক সোলেমানকে ধরে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। হানাদাররা যুদ্ধকালীন সময়ে হত্যা করে প্রাক্তন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদ মোখতার, কেন্দুয়া কালিবাড়ীর মজনু, সংগ্রাম পরিষদ সদস্য কামরুদ্দিন খোকা, লাহিড়ী কান্দার আওয়ামী লীগ নেতা ময়নাল হক সহ নাম না জানা অসংখ্য স্বাধীনতা কামী বাঙ্গালীকে। সূত্র ঃ সংশ্লিষ্টদের সাাৎকার নিয়ে শফিক জামান
খেলাধুলা জামালপুরের আলো-বাতাস, আকাশ, মাটি গুণী শিল্পী সাধকের অনুকূল লালনত্রে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের সাংবাৎসরিক উৎসব পালনের পাশাপাশি চিত্তবিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়ে থাকে। এই সব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে নৌকা বাইচ, ঘোড়দৌড়, ষাঁড়ের লড়াই ও চঙ্গদৌড়, লাঠিখেলা, হা-ডু-ডু (কাবাডি) ও ফুটবল অত্যন্ত সমাদৃত। সম্প্রতি এই জেলায় আধুনিক খেলাধুলার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। খেলাধূলাচর্চা ও মান উন্নয়নের ল্েয ১৯৬২ সালে জামালপুর স্টেডিয়াম স্থাপিত হয়। এই স্টেডিয়াম সংলগ্ন স্থানে রয়েছে একটি ব্যায়ামাগার ও ক্রীড়া প্রশিণ কেন্দ্র।
মুক্তিযুদ্ধে জামালপুর রণাঙ্গন রাজনৈতিক ইতিহাসে ইংরেজ আমলে সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, নীলকর বিদ্রোহ, ফকির বিদ্রোহ, কৃষক বিদ্রোহ ও জমিদার অত্যাচার উৎপীড়নের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলের অধিবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশ বিভাগ পরবর্তী সময়ে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান ও সর্বপরী ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে জামালপুরবাসীর গৌরবোজ্জল অবদান। মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে তৎকালীন এমএলএ ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাকিম, মতিয়ুর রহমান তালুকদার, রেজাউল করিম হীরা, ময়েন উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ আলী মন্ডলসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন চলে বিােভ-সমাবেশ। পাশাপাশি চলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধের প্রস্তুতি। ’৭১-এর ২২ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত জামালপুর দখল করে নিয়ে চালায় গণহত্যা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ। এদিন সন্ধ্যায় শহরের মেডিকেল রোড, ঢাকাই পট্টি, পাথালিয়া, বকুলতলাসহ অনেক এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। রাতভর আগুনে শহরের অধিকাংশ এলাকা পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এদিন চলে পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের ব্যাপক লুটতরাজ। বিজয় : ১৬ই ডিসেম্বর দেশ শত্র“মুক্ত হলেও এর পাঁচদিন পূর্বে ১১ই ডিসেম্বর প্রচন্ড যুদ্ধের পর মুক্তিবাহিনী অমিত বিক্রমে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে জামালপুরে বিজয় পতাকা উড়ান। জামালপুর অঞ্চলকে পাকহানাদার মুক্ত করার পেছনে ১১নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের রয়েছে বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ সময়ে ৪ ডিসেম্বর জামালপুরের ঐতিহাসিক কামালপুর রণাঙ্গন হানাদার মুক্ত হয়। উত্তর রণাঙ্গনে হানাদার পাক বাহিনীর দুর্ভেদ্য ঘাটি কামালপুর দুর্গ পতনের মধ্য দিয়েই সূচিত হয় মূলতঃ ঢাকা বিজয়ের পথ। স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহেন্দ্রগঞ্জ থানার সীমান্তবর্তী জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুরে পাক হানাদার বাহিনী গড়ে তুলে শক্তিশালী দুর্ভেদ্য ঘাটি। ১১নং সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তাহেরের পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধারা কামালপুর দুর্গ আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে কমপে ৮ দফা এই দুর্গে আক্রমন করে। প্রচন্ড যুদ্ধের পরও এই দুর্গ দখলে ব্যর্থ হয়। শহীদ হয় ক্যাপ্টেন সালাহ উদ্দিন মমতাজসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। সর্বশেষ ১৪ নভেম্বর সম্মুখ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে শক্রর গোলার আঘাতে একটি পা হারান সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তাহের। আহত অবস্থায়ও কর্ণেল তাহেরের নির্দেশ ছিল যে কোন মূল্যে কামালপুর দুর্গ দখলের। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর এই ঘাটি ঘিরে চতুর্মুখী অবরোধ সৃষ্টি করে। ঘাটি রায় মরিয়া হানাদার বাহিনীর সাথে শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর সদর দপ্তর জামালপুরের সাথে কামালপুরের সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে পাকসেনাদের খাদ্য ও গোলাবরুদ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ১০ দিন কামালপুর দুর্গ অবরোধ থাকার পর পাকসেনারা মনোবল হারিয়ে ফেলে। ৪ ডিসেম্বর সকাল ৭টায় মিত্র বাহিনীর মেজর রনজিত কুমার সিং এর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা বছির আহম্মেদ সাদা পতাকা দিয়ে আত্মসর্মপণের আহবান সম্বলিত একটি চিরকুট নিয়ে হানাদার দুর্গ কামালপুর ক্যাম্পে যায়। হানাদাররা তাকে আটকে রাখলে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা সঞ্জু মিয়াকে পাঠানো হয় হানাদার দুর্গে আত্মসমর্পণের আহ্বান চিঠি দিয়ে। তাকেও আটকে রাখা হলে মুক্তি বাহিনী মিত্র বাহিনীর সহায়তায় চতুর্মুখী আক্রমণ চালায় এই দুর্গে। এক পর্যায়ে হানাদাররা বিকেল ৫টায় আত্মসমর্পণের সম্মতি পত্র সহ মুক্তিযোদ্ধা বছির আহম্মেদকে ফেরত পাঠায়। ২৪ নভেম্বর থেকে ১০ দিন ব্যাপী লাগাতার রক্তয়ী যুদ্ধের পর ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টায় হানাদার বাহিনীর ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের গ্যারিসন কমান্ডার আহসান মালিক খান ১৬২ জন পাকসেনাসহ মিত্র ও মুক্তি বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে। পতন হয় কামালপুর ঘাটির। সূচিত হয় ঢাকা বিজয়ের পথ। কামালপুরের চুড়ান্ত যুদ্ধে ধানুয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান বীর প্রতীক, নুর ইসলাম বীর প্রতীক গুরুতর ভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। শহীদ হন আলীর পাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান ও সুর্যনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তসলিম উদ্দিন। ১০ দিন ব্যাপী এই রক্তয়ী যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর প্রায় শতাধিক সৈন্য নিহত হয়। কামালপুর পতনের পর ক্রমান্বয়ে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইল পতনের পর ১১ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা উপনীত হয় ঢাকার উপকণ্ঠে। ১১নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের কামালপুর ঘাটি অবরোধ এবং বীরোচিত আক্রমণে ৪ ডিসেম্বর এই ঘাঁটির পতনের পর ছিলো এক ঐতিহাসিক বিজয়। কামালপুরের পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি পতনের পর ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের পাক হানাদাররা একযোগে পশ্চাদপসারণ করে জামালপুরে অবস্থিত হেড কোয়ার্টার প্রতিরায় সর্বশক্তি নিয়োগ করে। অপ্রতিরোধ্য মুক্তিযোদ্ধারা মিত্র বাহিনীর সহায়তায় ৩১ বালুচের হেড কোয়ার্টারের চারদিক ঘিরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মিত্রবাহিনীর একটি চিঠি নিয়ে পিটিআই ক্যাম্পে গেলে পাক বাহিনী তার ওপর নির্মম নির্যাতন করে তাকে ছেড়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের চতুরমুখী আক্রমন ও ১০ ডিসেম্বর দিন-রাতব্যাপী প্রচন্ড যুদ্ধের পর গভীর রাতে অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর ভোরে লেঃ কর্নেল সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন হানাদার বাহিনী পশ্চাদপসারণ করে। ভোর সাড়ে ৪ টায় পাকিস্তানী বাহিনী নি:স্তব্ধ হয়ে যায়। অল্প কিছুণের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়েজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর একটি দল গগন বিদারী ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে চারদিক থেকে জামালপুর শহরে প্রবেশ করেন। রাস্তায় নেমে আসে মুক্তিকামী মানুষেরা। মুক্তিযোদ্ধাদের এ দলটি শত্র“মুক্ত হানাদারবাহিনীর ঘাটি পিটিআই-এ আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজয় পতাকা উত্তোলন করে। জামালপুর মুক্ত হওয়ার যুদ্ধে ২৩৫ জন পাক বাহিনী নিহত, ২৩ জন আহত হয়। মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড সহ ৩৭৬ জন পাক সেনা। ক’দিনব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধে শহীদ হয় মিত্রপরে মারাঠা লাইট ইনফ্যান্টির ১০ জন জওয়ান ও ১৩ গার্ড রেজিমেন্টের ১ জন জওয়ান।
খেলাধুলা জামালপুরের আলো-বাতাস, আকাশ, মাটি গুণী শিল্পী সাধকের অনুকূল লালনত্রে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের সাংবাৎসরিক উৎসব পালনের পাশাপাশি চিত্তবিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়ে থাকে। এই সব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে নৌকা বাইচ, ঘোড়দৌড়, ষাঁড়ের লড়াই ও চঙ্গদৌড়, লাঠিখেলা, হা-ডু-ডু (কাবাডি) ও ফুটবল অত্যন্ত সমাদৃত। সম্প্রতি এই জেলায় আধুনিক খেলাধুলার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। খেলাধূলাচর্চা ও মান উন্নয়নের ল্েয ১৯৬২ সালে জামালপুর স্টেডিয়াম স্থাপিত হয়। এই স্টেডিয়াম সংলগ্ন স্থানে রয়েছে একটি ব্যায়ামাগার ও ক্রীড়া প্রশিণ কেন্দ্র।
মুক্তিযুদ্ধে জামালপুর রণাঙ্গন রাজনৈতিক ইতিহাসে ইংরেজ আমলে সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, নীলকর বিদ্রোহ, ফকির বিদ্রোহ, কৃষক বিদ্রোহ ও জমিদার অত্যাচার উৎপীড়নের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলের অধিবাসীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশ বিভাগ পরবর্তী সময়ে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান ও সর্বপরী ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে জামালপুরবাসীর গৌরবোজ্জল অবদান। মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে তৎকালীন এমএলএ ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাকিম, মতিয়ুর রহমান তালুকদার, রেজাউল করিম হীরা, ময়েন উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ আলী মন্ডলসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন চলে বিােভ-সমাবেশ। পাশাপাশি চলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধের প্রস্তুতি। ’৭১-এর ২২ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত জামালপুর দখল করে নিয়ে চালায় গণহত্যা, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ। এদিন সন্ধ্যায় শহরের মেডিকেল রোড, ঢাকাই পট্টি, পাথালিয়া, বকুলতলাসহ অনেক এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। রাতভর আগুনে শহরের অধিকাংশ এলাকা পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এদিন চলে পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের ব্যাপক লুটতরাজ। বিজয় : ১৬ই ডিসেম্বর দেশ শত্র“মুক্ত হলেও এর পাঁচদিন পূর্বে ১১ই ডিসেম্বর প্রচন্ড যুদ্ধের পর মুক্তিবাহিনী অমিত বিক্রমে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে জামালপুরে বিজয় পতাকা উড়ান। জামালপুর অঞ্চলকে পাকহানাদার মুক্ত করার পেছনে ১১নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের রয়েছে বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ সময়ে ৪ ডিসেম্বর জামালপুরের ঐতিহাসিক কামালপুর রণাঙ্গন হানাদার মুক্ত হয়। উত্তর রণাঙ্গনে হানাদার পাক বাহিনীর দুর্ভেদ্য ঘাটি কামালপুর দুর্গ পতনের মধ্য দিয়েই সূচিত হয় মূলতঃ ঢাকা বিজয়ের পথ। স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহেন্দ্রগঞ্জ থানার সীমান্তবর্তী জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুরে পাক হানাদার বাহিনী গড়ে তুলে শক্তিশালী দুর্ভেদ্য ঘাটি। ১১নং সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তাহেরের পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধারা কামালপুর দুর্গ আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে কমপে ৮ দফা এই দুর্গে আক্রমন করে। প্রচন্ড যুদ্ধের পরও এই দুর্গ দখলে ব্যর্থ হয়। শহীদ হয় ক্যাপ্টেন সালাহ উদ্দিন মমতাজসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। সর্বশেষ ১৪ নভেম্বর সম্মুখ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে শক্রর গোলার আঘাতে একটি পা হারান সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তাহের। আহত অবস্থায়ও কর্ণেল তাহেরের নির্দেশ ছিল যে কোন মূল্যে কামালপুর দুর্গ দখলের। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর এই ঘাটি ঘিরে চতুর্মুখী অবরোধ সৃষ্টি করে। ঘাটি রায় মরিয়া হানাদার বাহিনীর সাথে শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর সদর দপ্তর জামালপুরের সাথে কামালপুরের সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে পাকসেনাদের খাদ্য ও গোলাবরুদ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ১০ দিন কামালপুর দুর্গ অবরোধ থাকার পর পাকসেনারা মনোবল হারিয়ে ফেলে। ৪ ডিসেম্বর সকাল ৭টায় মিত্র বাহিনীর মেজর রনজিত কুমার সিং এর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা বছির আহম্মেদ সাদা পতাকা দিয়ে আত্মসর্মপণের আহবান সম্বলিত একটি চিরকুট নিয়ে হানাদার দুর্গ কামালপুর ক্যাম্পে যায়। হানাদাররা তাকে আটকে রাখলে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা সঞ্জু মিয়াকে পাঠানো হয় হানাদার দুর্গে আত্মসমর্পণের আহ্বান চিঠি দিয়ে। তাকেও আটকে রাখা হলে মুক্তি বাহিনী মিত্র বাহিনীর সহায়তায় চতুর্মুখী আক্রমণ চালায় এই দুর্গে। এক পর্যায়ে হানাদাররা বিকেল ৫টায় আত্মসমর্পণের সম্মতি পত্র সহ মুক্তিযোদ্ধা বছির আহম্মেদকে ফেরত পাঠায়। ২৪ নভেম্বর থেকে ১০ দিন ব্যাপী লাগাতার রক্তয়ী যুদ্ধের পর ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টায় হানাদার বাহিনীর ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের গ্যারিসন কমান্ডার আহসান মালিক খান ১৬২ জন পাকসেনাসহ মিত্র ও মুক্তি বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে। পতন হয় কামালপুর ঘাটির। সূচিত হয় ঢাকা বিজয়ের পথ। কামালপুরের চুড়ান্ত যুদ্ধে ধানুয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান বীর প্রতীক, নুর ইসলাম বীর প্রতীক গুরুতর ভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। শহীদ হন আলীর পাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান ও সুর্যনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তসলিম উদ্দিন। ১০ দিন ব্যাপী এই রক্তয়ী যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর প্রায় শতাধিক সৈন্য নিহত হয়। কামালপুর পতনের পর ক্রমান্বয়ে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইল পতনের পর ১১ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা উপনীত হয় ঢাকার উপকণ্ঠে। ১১নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের কামালপুর ঘাটি অবরোধ এবং বীরোচিত আক্রমণে ৪ ডিসেম্বর এই ঘাঁটির পতনের পর ছিলো এক ঐতিহাসিক বিজয়। কামালপুরের পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি পতনের পর ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের পাক হানাদাররা একযোগে পশ্চাদপসারণ করে জামালপুরে অবস্থিত হেড কোয়ার্টার প্রতিরায় সর্বশক্তি নিয়োগ করে। অপ্রতিরোধ্য মুক্তিযোদ্ধারা মিত্র বাহিনীর সহায়তায় ৩১ বালুচের হেড কোয়ার্টারের চারদিক ঘিরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মিত্রবাহিনীর একটি চিঠি নিয়ে পিটিআই ক্যাম্পে গেলে পাক বাহিনী তার ওপর নির্মম নির্যাতন করে তাকে ছেড়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের চতুরমুখী আক্রমন ও ১০ ডিসেম্বর দিন-রাতব্যাপী প্রচন্ড যুদ্ধের পর গভীর রাতে অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর ভোরে লেঃ কর্নেল সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন হানাদার বাহিনী পশ্চাদপসারণ করে। ভোর সাড়ে ৪ টায় পাকিস্তানী বাহিনী নি:স্তব্ধ হয়ে যায়। অল্প কিছুণের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়েজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর একটি দল গগন বিদারী ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে চারদিক থেকে জামালপুর শহরে প্রবেশ করেন। রাস্তায় নেমে আসে মুক্তিকামী মানুষেরা। মুক্তিযোদ্ধাদের এ দলটি শত্র“মুক্ত হানাদারবাহিনীর ঘাটি পিটিআই-এ আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজয় পতাকা উত্তোলন করে। জামালপুর মুক্ত হওয়ার যুদ্ধে ২৩৫ জন পাক বাহিনী নিহত, ২৩ জন আহত হয়। মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড সহ ৩৭৬ জন পাক সেনা। ক’দিনব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধে শহীদ হয় মিত্রপরে মারাঠা লাইট ইনফ্যান্টির ১০ জন জওয়ান ও ১৩ গার্ড রেজিমেন্টের ১ জন জওয়ান।