সাংস্কৃতিকধারা

শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে জামালপুর জেলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। অনেক বরেণ্য ব্যক্তির জন্ম হয়েছে এই জেলায়। খ্যাতিমান এ সকল ব্যক্তিরা দেশে ও বিদেশে এই জেলার সুনাম বয়ে এনেছেন। শ্রদ্ধাভরে যাদের কথা স্মরণ করা যায় তাদের মধ্যে রয়েছেন, কবি হাসান হাফিজুর রহমান, ওস্তাদ ফজলুল হক, গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু, বিশিষ্ট অভিনেতা-চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আব্দুলাহ আল মামুন প্রমুখ। ভারতীয় বাংলা সিনেমার নায়ক রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িও এই জামালপুরে। শহরের প্রেসকাবের সামনে ছিল তার বাড়ি। বাড়িটি আগে মল্লিক বাড়ি নামে পরিচিত ছিল। ভারতের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী গণেশ হালুই এবং ভারতের দিল্লী আর্ট কাউন্সিলের অধ্য ডঃ নীরেন সেন গুপ্তের বাড়িও ছিল এই শহরেই। জামালপুর জেলা বর্তমানে সংস্কৃতিচর্চার পীঠস্থান হিসেবে এক অভূতপূর্ব সারা জাগিয়েছে। বিশেষ করে এনটিভির কোজআপ-ওয়ান তোমাকে খুঁজছে বাংলাদেশ অনুষ্ঠানের কোজআপ-ওয়ান বিজয়ী নোলক বাবু ও প্রথম রানার আপ রাজীবের বাড়ি এই জামালপুর শহরে। জাতীয় শিা সপ্তাহ, জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা, নতুন কুঁড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যে সকল উদীয়মান শিল্পী প্রতিভার স্বার রাখছে আলিফ লায়লা মৌসুমী, ভুলনা খাতুন, অবন্তী দেব সিঁথি, মাসুম রহমান, সাফিয়া আফরোজ ইথি, দিপ্তী, পুতুল সেন, প্রয়াত নিপা সাহাসহ বেশ কিছু নবীন ও শিশু শিল্পী। এছাড়া বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভূক্ত অনেক শিল্পী রয়েছেন জামালপুরের। জামালপুর জেলায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নাট্যগোষ্ঠী রয়েছে। সঙ্গীত বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে কলতান কচি-কাঁচার মেলা, মণিমেলা খেলাঘর আসর, লোকজ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা, গুরুমুখী সঙ্গীত বিদ্যালয় এবং জামালপুর সঙ্গীত বিদ্যালয়। সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে অগ্রসর এই জেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন এই জেলাবাসী।